তিন সেরার থানা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর

158
নিজেস্ব প্রতিবেদক : ৪শ’ ৬১ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দৌলতপুর থানা থেকে ১৯৮৩ সালে রূপ পায় উপজেলায়। কুষ্টিয়া জেলার পশ্চিম সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুর। উত্তরে বাঘা ও লালপুর, দক্ষিণে গাংনি ও মিরপুর, পূর্বে ভেড়ামারা ও মিরপুরের কিছু অংশ এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। আয়তন, জনসংখ্যা এবং ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলা পুলিশে সম্প্রতি যোগ হয়েছে বাড়তি মাত্রা।
দৌলতপুর থানা পুলিশের বর্তমান ওসি নজরুল ইসলাম পেয়েছেন কুষ্টিয়া জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি’র সম্মান, দৌলতপুর পুলিশ ছাড়েনি অন্য পদের সম্মাননা গুলোও। এসআই সাইফুল ইসলাম ঘরে তুলেছেন শ্রেষ্ঠ এসআইয়ের স্বীকৃতি। থেমে থাকেনি এএসআই নাসির উদ্দিন মোল্যা,তিনি পেয়েছেন ক্যাম্প ইনচার্জ হিসাবে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান।
কাকতালীয় হলেও সত্য যে, তিন ক্যাটাগরিতে তিন সেরার পুরষ্কারই এখন দৌলতপুর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। সম্মাননা প্রাপ্তী ব্যাক্তিত্বের সাথে দায়িত্ব এবং পেশাদারিত্বের বাঁধন শক্ত করে বলেই মনে করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
দৌলতপুর থানায় পর্যাপ্ত ফোর্স আর যানবাহনের ঘাটতি বেশ পুরনো কথা; আর বাল্যবিবাহ,মাদকের মতো অপরাধ জড়িয়ে দৌলতপুরের পরতে পরতে। এই আবহে পুলিশি দায়িত্ব যে মোটা দাগেই শক্ত! সে কথা বলা বাহুল্য।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ‘পারফর্মেন্স এ্যাওয়ার্ড জানুয়ারি ২০১৯’ প্রদান করা হয় ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং সেবা প্রদানের বিবেচনায় দেয়া এই এ্যাওয়ার্ডের তিনটিই দৌলতপুর থানায় আসাতে অনেকটাই উচ্ছসিত এলাকাবাসী। পাশাপাশি অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা দিয়ে দৌলতপুরের আইনশৃঙ্খলা আরও উন্নতি প্রত্যাশা করছেন সচেতন সমাজ।
কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলার ৭টি থানায় নানা পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেয়া হয় এধরনের পুরষ্কার। ওসি নজরুল ইসলাম তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শুরু করেন ২০০৩ সালে ক্যাডেট সাব ইন্সপেক্টর হিসেবে। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন থানায় কাজ করেন লম্বা সময়। ২০১৩ সালে ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানায় প্রথম যোগ দেন ওসি পদে। একই জেলার ডিবি পুলিশে কাটানোর পর আবার ফিরে যান রাজধানীর মেট্রোপলিটন পুলিশে। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে আসেন অফিসার ইনচার্জ দৌলতপুর হিসেবে।
এসআই সাইফুল ইসলাম ২০১৩ সালে যোগ দেন বাংলাদেশ পুলিশে। ক্যারিয়ার শুরুর পদ ছিলো এসআই,থানা কুষ্টিয়ার কুমারখালী। দেশের কয়েকটি থানায় দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে রয়েছেন দৌলতপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এর দায়িত্বে।
এএসআই, নাসির উদ্দিন মোল্যা কন্সটেবল পদে চাকরী শুরু করেন ১৯৮৪ –তে যশোরের একটি প্রত্যন্ত থানায়। নড়াইল-চুয়াডাঙ্গা-বান্দরবানসহ বেশ কয়েকটি থানায় কাজ করা কন্সটেবল নাসির উদ্দিনের পদন্নোতি হয় ১৯৯২ সালে ডিবি –তে,  এএসআই পদে। কিছু পরে দশর্নার সীমান্ত চেক পোস্টে দায়িত্বশীল পদে থাকেন এই এএসআই। ক্যারিয়ারের প্রায় তিন যুগ সময়ে অনেকগুলো জেলায় কাজের ধারাবাহিকতায় তিনি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আসেন ২০১৭ সালে। এখানে, দৌলতপুর থানায় বেশ কিছুদিন দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে রয়েছেন তেকালা ক্যাম্প ইনচার্জ হিসাবে। সেরার সম্মাননা বারবারই আসুক দৌলতপুরে, সাথে শৃঙ্খলার শৃঙ্খল থাকুক গণবান্ধব পুলিশিংয়ে, এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।